সর্বশেষ
লোড হচ্ছে...
রমজান ১৪৪৭
লোড হচ্ছে...
সাহরি (শেষ সময়)
--:--
ইফতার (শুরু)
--:--
পরবর্তী ইফতার
০০:০০:০০

দলীয় অনৈক্যে কপাল পুড়ল নেত্রকোনা বিএনপির

 

দলীয় অনৈক্যে কপাল পুড়ল নেত্রকোনা বিএনপির


হেডলাইন: নেত্রকোনায় বিএনপির একচ্ছত্র আধিপত্যে ধাক্কা কেবল পূর্বধলায়, হারের নেপথ্যে অন্তর্কোন্দল ও অহংকার?

$ads={1}

নিজস্ব প্রতিবেদক, নেত্রকোনা:

নেত্রকোনা জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের চারটিতেই বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছে বিএনপি। তবে ছন্দপতন ঘটেছে কেবল নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনে। সেখানে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর কাছে অল্প ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থী। দলের এমন শক্ত অবস্থানের মধ্যেও পূর্বধলায় কেন এই বিপর্যয়, তা নিয়ে এখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

আরো পড়ুন - দুবাই-দোহা-তেল আবিবে বিস্ফোরণ: উত্তাল মধ্যপ্রাচ্য

নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, নেত্রকোনা-৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাসুম মোস্তফা ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ৮২ হাজার ১৭৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো. আবু তাহের তালুকদার পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৪১২ ভোট। পরাজয়ের ব্যবধান ২ হাজার ৭৬৫ ভোট।


পরাজয়ের কারণ ও তৃণমূলের ক্ষোভ

পূর্বধলায় বিএনপির পরাজয়ের পেছনে দলীয় কোন্দল ও নেতাদের নিষ্ক্রিয়তাকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও তৃণমূল কর্মীরা। জানা গেছে, ওই আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট নেতা। শেষ পর্যন্ত আবু তাহের মনোনয়ন পেলেও, অন্য মনোনয়নপ্রত্যাশীরা তার পক্ষে মাঠে নামেননি। অভিযোগ রয়েছে, দলের বড় একটি অংশ নির্বাচনের সময় নীরব ভূমিকা পালন করেছে।

$ads={2}

এছাড়া, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে স্থানীয় কিছু নেতাকর্মীর বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ভোটের মাঠে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের এক সাবেক নেতা জানান, প্রার্থীর অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস এবং কিছু কর্মীর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ ভোটাররা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। জামায়াতের প্রার্থী শক্তিশালী হওয়া সত্ত্বেও বিএনপি প্রার্থী তা আমলে নেননি, যা কাল হয়েছে।


পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

পরাজিত বিএনপি প্রার্থী আবু তাহের তালুকদার অবশ্য পরাজয় মেনে নিতে নারাজ। তিনি অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনে সূক্ষ্ম কারচুপি হয়েছে এবং ভোটারদের কেন্দ্র থেকে ভয় দেখিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি ফলাফল স্থগিত করে ভোট পুনর্গণনার দাবিতে উচ্চ আদালতে আপিল করেছেন।

আরো পড়ুন - খামেনি পরবর্তী ইরান: কে আসছেন নেতৃত্বে?

অন্যদিকে, কারচুপির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সাইফুর রহমান। তিনি বলেন, ফলাফল ঘোষণা ও স্বাক্ষর হয়ে যাওয়ার পর এখন এসব প্রশ্নের কোনো ভিত্তি নেই।

$ads={1}

বিজয়ী জামায়াত প্রার্থী মাসুম মোস্তফা বলেন, তিনি সবসময় অহিংস ও অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে বিশ্বাসী। পূর্বধলার জনগণ তার অতীতের কাজের মূল্যায়ন হিসেবেই তাকে ভোট দিয়েছেন।


বাকি ৪ আসনে বিএনপির জয়জয়কার

পূর্বধলায় হোঁচট খেলেও জেলার বাকি চারটি আসনে বিএনপি প্রার্থীরা বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।

$ads={2}

নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর): বিএনপির ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ১ লাখ ৫৮ হাজার ৩৪৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি তার প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফত মজলিসের গোলাম রব্বানীকে ৭০ হাজার ৮৫৫ ভোটে পরাজিত করেন।

নেত্রকোনা-২ (সদর ও বারহাট্টা): এই আসনে বিএনপির ডা. আনোয়ারুল হক ১ লাখ ৭১ হাজার ৩৯৯ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তিনি এনসিপির প্রার্থী ফাহিম রহমান খান পাঠানকে ১ লাখ ৪ হাজার ৩২ ভোটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছেন।

নেত্রকোনা-৩ (আটপাড়া ও কেন্দুয়া): বিএনপির রফিকুল ইসলাম হিলালী ১ লাখ ১৮ হাজার ৪৬৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া পিছিয়ে ছিলেন ৪৯ হাজার ৫০৮ ভোটে।

নেত্রকোনা-৪ (মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরী): এই আসনে ধানের শীষ প্রতীকে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ১ লাখ ৬০ হাজার ৮০১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি জামায়াতের প্রার্থী আল হেলাল তালুকদারকে ১ লাখ ২১ হাজার ৯৫৫ ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেন।

$ads={1}

জেলা বিএনপির সভাপতি মো. আনোয়ারুল হক জানিয়েছেন, চারটি আসনে বড় জয় এলেও পূর্বধলার ফলাফল তাদের ভাবিয়ে তুলেছে। কোথায় সাংগঠনিক দুর্বলতা ছিল, তা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

Post a Comment

Previous Post Next Post