সর্বশেষ
পোস্ট লোড হচ্ছে...

পে স্কেলে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য কী থাকছে নতুন সিদ্ধান্তে

 

বাংলাদেশের নতুন পে স্কেল ২০২৬ নিয়ে সচিব কমিটির বৈঠকের প্রতীকী ছবি


পে স্কেলে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আসছে সুখবর

বাংলাদেশের সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। সচিব কমিটির ডাকা উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। জানা গেছে, মূল্যস্ফীতি ও বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় এবার নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য তুলনামূলক বেশি সুবিধা রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পেনশনভোগীদের জন্যও বড় ধরনের সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।

$ads={1}

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক সকাল ১১টায় শুরু হয়ে দুপুর পর্যন্ত চলে। বৈঠকে অংশ নেওয়া সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি চাকরিজীবীদের আর্থিক চাপ কিছুটা কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিশেষ করে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে যেসব কর্মচারী সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন, তাদের অগ্রাধিকার দিয়েই সুপারিশ তৈরি করা হয়েছে।

সূত্র বলছে, নতুন পে স্কেলে নিচের দুই গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর চিন্তা করা হয়েছে। অন্যদিকে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম হারে সুবিধা বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান কিছুটা হলেও উন্নত করা।

সরকারি পেনশনভোগীদের জন্যও এবার সুখবর আসতে পারে। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, যেসব অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পান, তাদের পেনশন প্রায় দ্বিগুণ পর্যন্ত বাড়ানোর চিন্তা করা হচ্ছে। এছাড়া ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য প্রায় ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

$ads={2}

এছাড়া প্রবীণ পেনশনভোগীদের চিকিৎসা ভাতা বাড়ানোর সুপারিশও করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ৭৫ বছরের বেশি বয়সী পেনশনভোগীদের চিকিৎসা ভাতা ৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা করা হতে পারে। একই সঙ্গে কম বয়সী পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও চিকিৎসা সহায়তা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

জানা গেছে, পূর্ণাঙ্গভাবে নতুন পে স্কেল একবারে কার্যকর করতে গেলে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ৪৩ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতো। তবে বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীদের দেওয়া ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতাকে নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করার পরিকল্পনা নেওয়ায় ব্যয়ের চাপ কিছুটা কমে এসেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এতে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকায় সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব হতে পারে।

এই বিশাল ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নতুন পে স্কেলকে সামনে রেখে বাজেট কাঠামোতেও বিশেষ পরিবর্তন আনার আলোচনা চলছে।

এদিকে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বাজেট সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার আয়োজিত ওই বৈঠকগুলোতে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের সম্ভাবনা, আর্থিক সক্ষমতা এবং ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

নতুন পে স্কেলের আওতায় শুধু প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারাই নন, বরং শিক্ষক, পুলিশ সদস্য, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ প্রশাসনের কর্মচারী এবং বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও অন্তর্ভুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ সরকারি সব খাতের কর্মচারীরা এই সুবিধার আওতায় আসবেন।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এর আগে গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, আগামী অর্থবছরের শুরু থেকেই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বর্তমানে বেশ চ্যালেঞ্জিং। রাজস্ব আদায়ের গতি আশানুরূপ না হওয়ায় সরকারকে অনেক খাতে ব্যয় কমাতে হচ্ছে। তারপরও সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামোকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের আলোচনায় উঠে এসেছে, একবারে পুরো পে স্কেল বাস্তবায়ন করলে বাজেটের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। এ কারণে এটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও গুরুত্ব পাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, তিন ধাপে নতুন পে স্কেল কার্যকর করার একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটিও ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে বলে জানা গেছে। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি, তবে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করে বাস্তবসম্মত উপায়ে এটি বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।

$ads={1}

নতুন পে স্কেলে সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে বেতনের কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হতে পারে। অন্যদিকে সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়িত হলে সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার মান কিছুটা উন্নত হতে পারে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের কর্মচারীরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন। তবে একই সঙ্গে সরকারের জন্য বাড়তি অর্থনৈতিক চাপও তৈরি হবে। এজন্য সরকারকে রাজস্ব আদায় বাড়ানো এবং ব্যয় ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানো সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হতে পারে। কারণ উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা অনেকটাই কমে গেছে। তবে এই বেতন বৃদ্ধি যেন ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়িয়ে না দেয়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।

$ads={2}

সব মিলিয়ে নবম জাতীয় পে স্কেল নিয়ে সরকারি পর্যায়ে জোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এখন সবার নজর আগামী বাজেট এবং সরকারের চূড়ান্ত ঘোষণার দিকে। যদি সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোয়, তাহলে আগামী জুলাই থেকেই দেশের লাখো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা পেতে শুরু করতে পারেন।

আরও পড়়ন
post thumbnail

ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে যারা নতুন পে স্কেলের অপেক্ষায় ছিলেন, তাদের জন্য এটি হতে পারে বড় স্বস্তির খবর।


Post a Comment

Previous Post Next Post