সর্বশেষ
পোস্ট লোড হচ্ছে...

ময়মনসিংহ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, নজরুল জন্মজয়ন্তী ঘিরে ত্রিশালে উৎসবের আমেজ

 

ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি নজরুল জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর


জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী উদযাপনকে কেন্দ্র করে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে ময়মনসিংহের ত্রিশাল। দীর্ঘদিন পর জাতীয় পর্যায়ে আয়োজন করা হচ্ছে বিশেষ এই অনুষ্ঠান। আর এই আয়োজনকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে শনিবার ময়মনসিংহ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার আগমনকে ঘিরে পুরো জেলায় তৈরি হয়েছে উৎসবের আমেজ, পাশাপাশি নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

$ads={1}

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল থেকেই তার সফরসূচি অনুযায়ী বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হবে। জাতীয় কবির স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশাল এলাকায় প্রধানমন্ত্রী অংশ নেবেন একাধিক উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে। বিশেষ করে বৈলর ইউনিয়নে ‘ধরার খাল’ পুনঃখনন প্রকল্প উদ্বোধন এবং জাতীয় নজরুল জন্মজয়ন্তীর মূল অনুষ্ঠান ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন বলছে, সফরকে সামনে রেখে ত্রিশালসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে টানানো হয়েছে ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণ। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ সাজসজ্জা। নজরুল একাডেমি মাঠ, ডাকবাংলো এলাকা এবং অনুষ্ঠানস্থলগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।

সফরসূচি অনুযায়ী, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ত্রিশাল উপজেলার বৈলর ইউনিয়নে যাবেন। সেখানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ‘ধরার খাল’ পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন তিনি। স্থানীয়ভাবে এই খালটি দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ জলাধার ও কৃষি ব্যবস্থার অংশ হিসেবে পরিচিত। খাল পুনঃখনন হলে কৃষি উৎপাদন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

$ads={2}

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী একটি সুধী সমাবেশেও বক্তব্য রাখবেন বলে জানা গেছে। সেখানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত থাকবেন।

এরপর দুপুর ২টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ত্রিশাল নজরুল ডাকবাংলোয় সংক্ষিপ্ত বিরতি নেবেন। বিকেল ৩টায় তিনি সরকারি নজরুল একাডেমি মাঠে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী জাতীয় অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করবেন।

এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে ত্রিশালে বসেছে বিশাল গ্রামীণ মেলা ও নজরুল বইমেলা। ইতোমধ্যে পাঁচ শতাধিক স্টল স্থাপন করা হয়েছে। বই, হস্তশিল্প, গ্রামীণ ঐতিহ্য ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক উপকরণ নিয়ে জমে উঠেছে পুরো এলাকা। দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে বিশেষ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, কবিতা আবৃত্তি, নজরুল সংগীত ও নাট্য প্রদর্শনী।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই জাতীয় অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী, গবেষক এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, আধুনিক সাউন্ড সিস্টেম, আলোকসজ্জা ও দর্শকদের জন্য বিশেষ বসার ব্যবস্থার মাধ্যমে অনুষ্ঠানকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালের পর এবারই প্রথম জাতীয় পর্যায়ে ত্রিশালে এত বড় পরিসরে নজরুল জন্মজয়ন্তী উদযাপন করা হচ্ছে। এ কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসাহ ও কৌতূহল কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। অনেকেই মনে করছেন, এই আয়োজন ত্রিশালকে নতুনভাবে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত করে তুলবে।

আরও পড়়ন
post thumbnail

বিকেল ৫টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ত্রিশাল নজরুল অডিটোরিয়ামে ময়মনসিংহ উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সভায় অংশ নেবেন। সেখানে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর শুধু সাংস্কৃতিক আয়োজনেই সীমাবদ্ধ নয়; এর মাধ্যমে ময়মনসিংহ অঞ্চলে রাজনৈতিক বার্তাও দিতে চাইছে সরকার ও ক্ষমতাসীন দল। বিশেষ করে উন্নয়ন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সংযোগ বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন বলে সফরসূচিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। ত্রিশালের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ, র‌্যাব ও গোয়েন্দা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় সিসিটিভি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাও বিশেষভাবে সাজানো হয়েছে।

$ads={1}

ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত সিদ্দিকী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। নিরাপত্তা, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ এবং অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন বলেন, এই আয়োজনের মাধ্যমে ত্রিশালের সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নতুনভাবে সামনে আসবে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় উন্নয়ন নিয়ে নতুন ঘোষণা দিতে পারেন বলেও আশা করছেন তিনি।

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এনামুল হকও জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ বিরাজ করছে। তিনি মনে করেন, এই সফর ত্রিশালের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করবে।

এদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও সফর ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, জাতীয় পর্যায়ের এই আয়োজনের কারণে ত্রিশালের ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও পরিবহন খাতে বাড়তি কর্মচাঞ্চল্য ইতোমধ্যেই দেখা যাচ্ছে।

সব মিলিয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী উদযাপন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহের ত্রিশাল এখন উৎসবের শহরে পরিণত হয়েছে। সাংস্কৃতিক আবহ, রাজনৈতিক গুরুত্ব এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা—সবকিছু মিলিয়ে এই সফরকে ঘিরে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাও অনেক বেড়ে গেছে।

$ads={2}

ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন পোস্ট ও আলোচনায় ইতোমধ্যে ত্রিশালের আয়োজন ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেকে এটিকে ময়মনসিংহ অঞ্চলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় আয়োজন হিসেবেও দেখছেন।

ফলে শনিবারের এই সফর শুধু একটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নয়, বরং এটি সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক এবং উন্নয়নমূলক দিক থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাতেই পরিণত হতে যাচ্ছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post