পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা এবং যানজট নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে Dhaka Metropolitan Police। পশুবাহী গাড়ি নিয়ে কোনো ধরনের টানাটানি, জোরপূর্বক হাটে প্রবেশ করানো কিংবা রাস্তায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।
$ads={1}
মঙ্গলবার (১৯ মে) ডিএমপি সদর দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সমন্বয় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভাটি আয়োজন করা হয় আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর পশুর হাট, কোরবানির পশুর চামড়া ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং কাঁচা চামড়া পরিবহনের সার্বিক পরিকল্পনা নিয়ে।
🔹 পশুবাহী গাড়ি নিয়ে বিশৃঙ্খলায় কড়া বার্তা
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঈদের সময় অনেক ক্ষেত্রেই পশুবাহী ট্রাক বা গাড়িকে জোরপূর্বক নির্দিষ্ট হাটে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এতে সড়কে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় এবং যানজট বাড়ে। এবার এমন কোনো পরিস্থিতি সহ্য করা হবে না।
$ads={2}
তার ভাষায়, “হাটের বাইরে বা রাস্তায় পশুবাহী যানবাহন থামিয়ে টানাটানি কিংবা জোরজবরদস্তি করা হলে সংশ্লিষ্ট ইজারাদারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, রাজধানীর সড়কে স্বাভাবিক চলাচল বজায় রাখতে হাটের সীমানার বাইরে কোনো পশু রাখা যাবে না। এতে সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ে।
🔹 যানজট নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পরিকল্পনা
ঈদুল আজহার সময় রাজধানীতে পশুবাহী ট্রাকের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সড়কে চাপ তৈরি হয়। এ বিষয়টি মাথায় রেখে এবার আগেভাগেই ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা নিয়েছে ডিএমপি।
সভায় জানানো হয়, বিভিন্ন পশুর হাটের আশপাশে বিশেষ ট্রাফিক টিম মোতায়েন থাকবে। তারা যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করবে এবং কোনো ধরনের অবৈধ দখল বা বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে কাজ করবে।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো জনগণের ঈদযাত্রা ও নগরজীবনকে স্বাভাবিক রাখা। এজন্য সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।”
🔹 জাল টাকা শনাক্তে থাকবে বিশেষ ব্যবস্থা
ঈদের পশুর হাটে জাল টাকার ব্যবহার ঠেকাতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান ডিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, বিভিন্ন হাটে জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিন সরবরাহ করা হবে, যাতে ক্রেতা-বিক্রেতারা সহজেই নোট যাচাই করতে পারেন।
প্রতি বছর ঈদের সময় পশুর হাটে বড় অঙ্কের লেনদেন হয়। সেই সুযোগে জাল নোট ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে প্রতারক চক্র। তাই এবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আগে থেকেই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
🔹 সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধের আহ্বান
ঈদের আগে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় উন্নয়ন কাজের কারণে সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি জনভোগান্তির বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঈদের এই ব্যস্ত সময়ে যেন নতুন করে কোথাও রাস্তা খোঁড়া না হয়।
তিনি বলেন, “মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে, সেদিকে সবাইকে নজর দিতে হবে। ঈদের সময় অপ্রয়োজনীয় খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধ রাখা জরুরি।”
🔹 নিরাপত্তায় একাধিক সংস্থার সমন্বয়
বিশেষ সমন্বয় সভায় বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সিটি করপোরেশন, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ বিভাগ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভায় অংশ নেওয়া সংস্থাগুলোর মধ্যে ছিল:
- Bangladesh Bank
- Department of Livestock Services
- Fire Service and Civil Defence
- Dhaka North City Corporation
- Dhaka South City Corporation
এছাড়াও পশুর হাটের ইজারাদার, ট্যানারি মালিক সমিতি, লবণ ব্যবসায়ী সমিতি এবং বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।
🔹 নিরাপত্তা পরিকল্পনার বিস্তারিত উপস্থাপন
সভার শুরুতে ডিএমপির অপারেশনস বিভাগের যুগ্ম কমিশনার পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা তুলে ধরেন। সেখানে পশুর হাট ব্যবস্থাপনা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, চামড়া পরিবহন, জরুরি সেবা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলার কৌশল ব্যাখ্যা করা হয়।
বিশেষ করে কোরবানির পর চামড়া সংগ্রহ ও পরিবহনের সময় যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
🔹 ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগের প্রস্তুতি
ঈদের সময় অস্থায়ী পশুর হাটে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি এড়াতে ফায়ার সার্ভিসকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদেরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।
কারণ হাট এলাকায় অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক সংযোগ ও জেনারেটর ব্যবহারের কারণে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকে। এজন্য জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
🔹 ঈদযাত্রা নিরাপদ করাই মূল লক্ষ্য
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঈদকে ঘিরে রাজধানীতে বিপুল মানুষের চলাচল বাড়বে। তাই জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশসহ সব সংস্থাকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
$ads={1}
তিনি বলেন, “ঈদ শুধু আনন্দের উৎসব নয়, এটি একটি বড় ব্যবস্থাপনার বিষয়ও। আমরা চাই জনগণ যেন স্বস্তিতে ঈদ উদযাপন করতে পারে।”
বিশ্লেষকদের মতে, আগেভাগে সমন্বয় সভা আয়োজন এবং কঠোর নির্দেশনা দেওয়ার ফলে রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে বিশৃঙ্খলা কিছুটা কমতে পারে। বিশেষ করে পশুবাহী গাড়ি জোর করে আটকানো বা নির্দিষ্ট হাটে নেওয়ার মতো ঘটনা নিয়ন্ত্রণে এ উদ্যোগ কার্যকর হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
