সর্বশেষ
পোস্ট লোড হচ্ছে...

শেখ হাসিনাকে ফেরত চায় সরকার, বিচারের মুখোমুখি করার কথা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন — প্রতীকী ছবি


শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে এখনো আশাবাদী সরকার, জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

$ads={1}

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-কে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের মুখোমুখি করার বিষয়ে সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, সরকার এখনো আশা করছে যে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় ভারত সরকার শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে।

রবিবার সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে আয়োজিত এক সংলাপে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ)। সংলাপে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি মাসউদুল হক।

সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা এবং তার ট্রাভেল পাস নিয়ে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে সরকারের কাছে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য বা প্রস্তুতি আছে কি না। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার আগেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নিয়েছে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারত সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় চিঠি পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার আইনানুগ উপায়ে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে চায়। দুই দেশের মধ্যকার প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী তাকে ফেরত পাঠানো সম্ভব বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, সরকার চায় শেখ হাসিনা দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচারের সম্মুখীন হোন।

$ads={2}

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরা নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা ধরনের গুঞ্জন ও জল্পনা তৈরি হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা দেখা যায়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে এ ধরনের বক্তব্য দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। কারণ এটি শুধু রাজনৈতিক নয়, কূটনৈতিক ও আইনি দিক থেকেও অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি বিষয়।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন অপরাধী প্রত্যর্পণ বিষয়ে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় অতীতেও বিভিন্ন ব্যক্তিকে এক দেশ থেকে আরেক দেশে হস্তান্তর করা হয়েছে। ফলে সরকার মনে করছে, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে শেখ হাসিনার ক্ষেত্রেও একই ধরনের সহযোগিতা পাওয়া সম্ভব হতে পারে।

তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন, সাবেক কোনো রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানকে প্রত্যর্পণের বিষয়টি সাধারণ অপরাধী প্রত্যর্পণের তুলনায় অনেক বেশি জটিল। এতে কূটনৈতিক সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক আইন এবং রাজনৈতিক বাস্তবতা—সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আরও পড়়ন
post thumbnail

এদিকে রাজনৈতিক মহলের একটি অংশ মনে করছে, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ দেশের রাজনীতিতে তিনি এখনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত একটি নাম। ফলে তাকে ঘিরে সরকারের অবস্থান, বিরোধী পক্ষের প্রতিক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক মহলের পর্যবেক্ষণ—সব মিলিয়ে বিষয়টি বেশ সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি কোনো সময়সীমা উল্লেখ না করলেও তিনি ইঙ্গিত দেন যে সরকার বিষয়টি নিয়ে এখনো সক্রিয় রয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এটি কেবল রাজনৈতিক কোনো বিষয় নয়; বরং আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই সরকার কাজ করছে।

এছাড়া তিনি বলেন, সরকার চায় সব ধরনের আইনি কার্যক্রম স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত হোক। কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, বরং আইন অনুযায়ী বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের উদ্দেশ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই বক্তব্যের মাধ্যমে মূলত একটি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বার্তা দেওয়া হয়েছে। এতে বোঝানো হয়েছে যে, শেখ হাসিনাকে ঘিরে সরকারের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি এবং তারা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

$ads={1}

অন্যদিকে বিরোধী রাজনৈতিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। কেউ কেউ মনে করছেন, শেখ হাসিনাকে নিয়ে চলমান আলোচনা ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে নির্বাচন, রাজনৈতিক জোট এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিকরা আরও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে প্রশ্ন করলেও শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গটি ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে এ বিষয়টি নিয়ে জনমনে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সাবেক প্রধানমন্ত্রীদের বিরুদ্ধে মামলা, বিচার ও রাজনৈতিক বিরোধ নতুন কিছু নয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনাকে ঘিরে যে আলোচনা চলছে, তা দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ সরকারের অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছেন, আবার কেউ বিষয়টিকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেও দেখছেন। ফলে পুরো বিষয়টি এখন জনআলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

$ads={2}

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে এ বিষয়ে ভারত সরকারের অবস্থান, কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং আইনি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি পরিস্থিতিকে আরও স্পষ্ট করবে। তবে আপাতত সরকার যে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে আগ্রহী—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে সেটিই আবারও পরিষ্কার হয়েছে।

সব মিলিয়ে সচিবালয়ে আয়োজিত এই সংলাপ শুধু একটি আনুষ্ঠানিক আলোচনা ছিল না; বরং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিতও বহন করছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Post a Comment

Previous Post Next Post