**আন্তর্জাতিক ডেস্ক:**
ইরানের রাজধানী তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। শনিবার সকালে খামেনির নিজস্ব কার্যালয়ে এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছে ইরান সরকার। সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে দেশজুড়ে ১ মার্চ থেকে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
$ads={1}
খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের শাসনভার কে সামলাবেন, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সংবিধানে সর্বোচ্চ নেতার অবর্তমানে ক্ষমতা হস্তান্তরের একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা দেওয়া আছে। সংবিধান অনুযায়ী, এই পরিস্থিতিতে তিন সদস্যের একটি বিশেষ পরিষদ সাময়িকভাবে দেশটির নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করবে।
আরো পড়ুন - ইরানি হামলায় লণ্ডভণ্ড মার্কিন ঘাঁটি: হতাহত অন্তত ২০০
এই অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদে থাকবেন ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন ধর্মীয় নেতা। উল্লেখ্য, ১৯৮৯ সালে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর দিনই খামেনিকে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশটির ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজানিকেও বিশেষ কিছু কর্তৃত্ব দেওয়া হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে।
এদিকে, রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শনিবার সকাল থেকেই ইরানজুড়ে ব্যাপক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর জবাবে ইরানও পাল্টা আঘাত হানে। ইসরায়েল ছাড়াও উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে তেহরান।
আরো পড়ুন - ইরানের ৩০ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা, বাদ যায়নি খামেনির বাসভবনও
হামলায় খামেনি ছাড়াও ইরানের উচ্চপদস্থ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ এবং বিপ্লবী গার্ডের কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলার পেছনে তিনটি প্রধান লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করেছেন। প্রথমত, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে সৃষ্ট আসন্ন হুমকি নির্মূল করা; দ্বিতীয়ত, দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ও নৌবাহিনীকে ধ্বংস করা এবং তৃতীয়ত, ইরানে শাসকগোষ্ঠীর পরিবর্তন নিশ্চিত করা।
হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পোস্টছবি: রয়টার্স
$ads={1}
আপাতত ইরানের পরিস্থিতি অত্যন্ত থমথমে এবং নেতৃত্বশূন্যতা পূরণে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার দৌড়ে যারা এগিয়ে:
মোয়াজতবা খামেনি: আয়াতুল্লাহ খামেনির দ্বিতীয় সন্তান। গত কয়েক বছর ধরে পর্দার আড়ালে থেকে তিনি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছেন। বিশেষ করে আইআরজিসি (IRGC) বা বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ওপর তাঁর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে বলে মনে করা হয়।
$ads={1}
আলি লারিজানি: ইরানের পার্লামেন্টের প্রাক্তন স্পিকার। সম্প্রতি তাকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিজ্ঞ এই রাজনীতিবিদকে বর্তমান সংকটে একজন ভারসাম্যপূর্ণ নেতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হাসান খোমেনি: ইরানের ইসলামী বিপ্লবের জনক আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি। সংস্কারপন্থী এবং মধ্যপন্থীদের মধ্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, যা তাঁকে একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে দাঁড় করিয়েছে।
$ads={1}
তিন সদস্যের অন্তর্বর্তীকালীন কাউন্সিল: খামেনির মৃত্যুর পর বর্তমানে একটি অস্থায়ী কাউন্সিল দেশ পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে। এতে রয়েছেন:
১. মাসুদ পেজেশকিয়ান (বর্তমান প্রেসিডেন্ট)
২. গোলাম হোসেন মহসেনি এহজেই (বিচার বিভাগের প্রধান)
৩. গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন সদস্য।

