রাজনীতির নামে বিভ্রান্তি ছড়ানোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এ ধরনের অপপ্রচারকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে যারা বিভ্রান্তি ছড়াতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
$ads={1}
শনিবার বিকেলে চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন তিনি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে দেশের আরও প্রায় ২০টি জেলায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই কর্মসূচির কার্যক্রম চালু করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে দেশের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা। বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষের জন্য বাস্তবমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ—এসব খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে সরকার।
$ads={1}
তিনি উল্লেখ করেন, দেশের জনগণ দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রামের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে এনেছে। এখন নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে সেই আস্থার প্রতিদান দেওয়া এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করা। তিনি বলেন, এখন সময় দেশের উন্নয়নকে এগিয়ে নেওয়ার এবং সবাইকে একযোগে কাজ করার।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কিছু গোষ্ঠী রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা করছে। এসব অপপ্রচারের বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হলে এই ধরনের অপচেষ্টা প্রতিহত করা জরুরি।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি মূলত নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সহায়তামূলক একটি উদ্যোগ। এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সহজলভ্য করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই কর্মসূচি দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণ ও মহিলা বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
$ads={1}
বক্তারা তাদের বক্তব্যে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম তুলে ধরেন এবং জনগণের কল্যাণে এসব উদ্যোগের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। তারা বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়নে এই ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যের শেষাংশে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গঠনের কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে হলে বিভ্রান্তি নয়, বাস্তব কাজের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এজন্য জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
$ads={1}
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এই লক্ষ্য অর্জনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে সরকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বার্তা দিয়েছে। একই সঙ্গে বিরোধী মত ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণার বিরুদ্ধে সতর্ক অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিতও পাওয়া যায়।
$ads={1}
সবশেষে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা বিভ্রান্তিতে না পড়ে দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন এবং একটি শক্তিশালী ও উন্নত বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখেন।
