মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় পদ্মা নদী থেকে একটি অজ্ঞাতপরিচয় অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মরদেহটি গাজীপুরের বহুল আলোচিত পাঁচ খুন মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লার হতে পারে। তবে চূড়ান্তভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করতে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
$ads={1}
শনিবার দুপুরের দিকে স্থানীয়রা পদ্মা নদীর ঘোড়দৌড় এলাকার কাছে একটি মরদেহ ভাসতে দেখতে পান। পরে তারা বিষয়টি নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ডুবুরিদল মরদেহটি উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া মরদেহটির অবস্থা ছিল অর্ধগলিত, ফলে তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
$ads={1}
নৌ পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, মরদেহটি উদ্ধার করে পরবর্তী প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। গাজীপুর জেলা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা ধারণা করেন, এটি ফোরকান মোল্লার মরদেহ হতে পারে। পরিবারের সদস্যরাও প্রাথমিকভাবে একই ধারণা প্রকাশ করেছেন।
$ads={1}
তবে মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ইতোমধ্যে মরদেহের সুরতহাল কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং দ্রুতই এটি গাজীপুরে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
এই ঘটনার পেছনে রয়েছে একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট। সম্প্রতি গাজীপুরের কাপাসিয়া এলাকায় এক ভয়াবহ হত্যার ঘটনা ঘটে, যেখানে একই পরিবারের পাঁচজনকে হত্যা করা হয়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন ফোরকানের স্ত্রী, তিন কন্যা এবং শ্যালক। এই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে উঠে আসে ফোরকান মোল্লার নাম।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর থেকেই ফোরকান পলাতক ছিলেন। এরই মধ্যে পদ্মা সেতুর সিসিটিভি ফুটেজে এক ব্যক্তিকে নদীতে ঝাঁপ দিতে দেখা যায়, যা দেখে ধারণা করা হয়, তিনি ফোরকান হতে পারেন। পরিবারের সদস্যরাও ওই ফুটেজ দেখে একই সন্দেহ প্রকাশ করেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো ঘটনা—তা নিশ্চিত করতে এখনো তদন্ত চলছে। মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরই বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
$ads={1}
এদিকে এই ঘটনার পর স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই পরিবারের পাঁচজনকে হত্যার মতো মর্মান্তিক ঘটনার পর প্রধান অভিযুক্তের সম্ভাব্য মৃত্যুর খবর মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের ঘটনায় সঠিক তদন্ত ও প্রমাণ সংগ্রহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, একটি মামলার মূল অভিযুক্তের মৃত্যু হলে পুরো বিচার প্রক্রিয়ায় প্রভাব পড়তে পারে।
$ads={1}
বর্তমানে পুলিশ, নৌ পুলিশ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে ঘটনাটি নিয়ে কাজ করছে। মরদেহের ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পরই নিশ্চিতভাবে বলা যাবে, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি সত্যিই ফোরকান মোল্লার কিনা।
