দেশে মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের ওপর সম্ভাব্য নতুন কর আরোপের আলোচনা ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এই উদ্যোগকে জনস্বার্থবিরোধী হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সরকারকে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
$ads={1}
রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যাচ্ছে যে, মোটরসাইকেল মালিকদের ওপর নতুন করে কর আরোপের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
তার বক্তব্যে উঠে আসে, দেশের অধিকাংশ মোটরসাইকেল ব্যবহারকারী ধনী শ্রেণির নন। বরং তারা নিত্যদিনের জীবিকা নির্বাহের জন্য এই বাহনটি ব্যবহার করেন। অনেকেই কর্মস্থলে যাতায়াত, ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনা কিংবা ডেলিভারি সার্ভিসের মতো পেশায় যুক্ত থেকে মোটরসাইকেলকে প্রধান যান হিসেবে ব্যবহার করেন। ফলে এই খাতে অতিরিক্ত কর আরোপ করলে সরাসরি তাদের জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন তিনি।
$ads={2}
শফিকুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রের রাজস্ব আহরণ নিশ্চিত করা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে রাজস্ব বাড়ানোর জন্য এমন একটি শ্রেণিকে লক্ষ্যবস্তু করা উচিত নয়, যারা ইতোমধ্যেই জীবনযুদ্ধে সংগ্রাম করছে। তিনি মনে করেন, করনীতির ক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষা করা জরুরি, যাতে সাধারণ মানুষ অযথা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
তিনি আরও বলেন, একটি দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো শক্তিশালী করতে হলে কর ব্যবস্থাকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তা ন্যায়সংগত এবং গ্রহণযোগ্য হয়। যদি কোনো সিদ্ধান্ত জনগণের বৃহৎ অংশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে, তাহলে সেটি পুনর্বিবেচনা করা উচিত।
তার মতে, মোটরসাইকেল এখন শুধু একটি ব্যক্তিগত বাহন নয়; বরং এটি অনেক মানুষের আয়ের উৎস। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে রাইড শেয়ারিং, কুরিয়ার সার্ভিস, খাবার সরবরাহসহ বিভিন্ন পেশায় যুক্ত মানুষের জন্য মোটরসাইকেল একটি অপরিহার্য মাধ্যম। এই খাতে কর বাড়ানো হলে তাদের আয় কমে যেতে পারে এবং জীবিকা নির্বাহ কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
এই প্রসঙ্গে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যদি এমন কোনো পরিকল্পনা সত্যিই গ্রহণ করা হয়ে থাকে, তাহলে তা থেকে সরে আসা উচিত। অন্যথায় এটি জনস্বার্থের পরিপন্থী একটি সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, কর ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত রাষ্ট্রের রাজস্ব বৃদ্ধি এবং একই সঙ্গে সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। তবে কোনো খাতে কর আরোপের আগে সেই খাতের সঙ্গে জড়িত মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
$ads={1}
বাংলাদেশে মোটরসাইকেলের ব্যবহার গত এক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শহর ও গ্রাম—উভয় অঞ্চলে দ্রুত যাতায়াতের জন্য এটি একটি সহজলভ্য ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী মাধ্যম হিসেবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। অনেক তরুণ উদ্যোক্তা এই বাহন ব্যবহার করে বিভিন্ন সেবা খাতে যুক্ত হয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই খাতকে নিরুৎসাহিত করার মতো কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করলে তা কর্মসংস্থানের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে করনীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনা করা জরুরি।
অন্যদিকে, সরকার যদি রাজস্ব বাড়ানোর জন্য নতুন কর আরোপের কথা চিন্তা করে থাকে, তাহলে বিকল্প উৎস খুঁজে বের করার পরামর্শও দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। যেমন বিলাসবহুল পণ্য, উচ্চ আয়ের খাত বা অপ্রয়োজনীয় খরচের ওপর কর বাড়ানো যেতে পারে, যাতে সাধারণ মানুষ কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
$ads={2}
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেক ব্যবহারকারী শফিকুর রহমানের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করছেন এবং বলছেন, মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের ওপর অতিরিক্ত কর চাপানো উচিত নয়। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, সড়ক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের জন্য কর আরোপ প্রয়োজন হতে পারে—তবে তা যেন যুক্তিসঙ্গত ও সহনীয় হয়।
সব মিলিয়ে বলা যায়, মোটরসাইকেল মালিকদের ওপর সম্ভাব্য কর আরোপের বিষয়টি এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ জনআলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। সরকার এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই এখন সবার নজরে।
