সর্বশেষ
লোড হচ্ছে...
রমজান ১৪৪৭
লোড হচ্ছে...
সাহরি (শেষ সময়)
--:--
ইফতার (শুরু)
--:--
পরবর্তী ইফতার
০০:০০:০০

ইরান আক্রমণের নেপথ্যে সৌদি যুবরাজ? চাঞ্চল্যকর তথ্য

 

ইরান আক্রমণের নেপথ্যে সৌদি যুবরাজ? চাঞ্চল্যকর তথ্য


খামেনি নিহত, ইরানের শাসনব্যবস্থা উৎখাতই ছিল লক্ষ্য: ওয়াশিংটন পোস্টের বিস্ফোরক প্রতিবেদন

$ads={1}

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি শনিবারের মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন। হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল—খামেনিকে হত্যা করা এবং ইরানের ইসলামি শাসকগোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ ক্ষমতাচ্যুত করা। এই সিদ্ধান্তের পেছনে কয়েক সপ্তাহ ধরে অবিরাম চাপ সৃষ্টি করছিল সৌদি আরব ও ইসরায়েল—এমনটাই জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্ট।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার নীতিনির্ধারণের সঙ্গে সরাসরি জড়িত অন্তত চারজন উচ্চপদস্থ মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, গত এক মাসে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ব্যক্তিগত ফোনে বারবার অনুরোধ করেন খামেনিকে হত্যা ও শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য বড় হামলা চালাতে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে ইরানকে ‘ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি’ বলে প্রচার চালিয়ে আসছিলেন।


দুই আঞ্চলিক মিত্রের এই যৌথ ও নিরন্তর লবিংয়ের ফলেই শনিবার রাতে ট্রাম্প চূড়ান্ত নির্দেশ দেন। হামলার প্রথম ঘণ্টার মধ্যেই খামেনিসহ ইরানের একাধিক শীর্ষ নেতা ও সামরিক কমান্ডার নিহত হন।

$ads={1}

আশ্চর্যের বিষয় হলো, হামলার মাত্র কয়েকদিন আগেও ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনার জেনেভায় ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে গোপন আলোচনা করছিলেন। একই সময়ে সৌদি আরব প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়ে বলছিল, “ইরানের ওপর হামলায় সৌদি আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।” কিন্তু বাস্তবে তারা গোপনে ঠিক উল্টো কাজ করছিল।


ওয়াশিংটন পোস্ট লিখেছে, সৌদি যুবরাজ ও তার ভাই প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান জানুয়ারি থেকেই মার্কিন কর্মকর্তাদের সতর্ক করে আসছিলেন— “যদি এখনই ইরানকে ধ্বংস না করা হয়, তাহলে আগামী দশকে তারা আরও শক্তিশালী ও ভয়ংকর হয়ে উঠবে।”


শনিবার হামলার পর ট্রাম্প এক ভিডিও বার্তায় ইরানিদের উদ্দেশে বলেন,  

“আজ রাতে আমি যা করলাম, আগের কোনো প্রেসিডেন্টই করার সাহস করেননি। এখন এমন একজন প্রেসিডেন্ট আছেন, যে আপনাদের জন্য যা দরকার তা করছেন। দেখা যাক, আপনারা এর কী জবাব দেন।”


তিনি ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর ভেতরে থাকা কর্মকর্তাদের প্রকাশ্যে আহ্বান জানান—বিদ্রোহ করুন, নতুন সরকার গঠন করুন, আমরা আপনাদের ‘সম্পূর্ণ দায়মুক্তি’ দেব।


মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সর্বশেষ মূল্যায়ন অনুযায়ী, আগামী দশকেও ইরান মার্কিন মূল ভূখণ্ডের জন্য কোনো সরাসরি হুমকি নয়। তারপরও এই ঝুঁকিপূর্ণ ও বড় ধরনের শাসন-পরিবর্তন অভিযানে যাওয়া ট্রাম্পের আগের সব সামরিক নীতির চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন পথ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

$ads={2}

সাবেক মার্কিন কূটনীতিক অ্যারন ডেভিড মিলার বলেছেন, “শুধু আকাশ হামলা দিয়ে কোনো দেশের শাসনব্যবস্থা পুরোপুরি বদলে দেওয়া ইতিহাসে খুব কমই সফল হয়েছে। এটা ট্রাম্পের চিরাচরিত জুয়া—হয় বাজিমাত, নয়তে চূড়ান্ত বিপর্যয়।”


Post a Comment

Previous Post Next Post