হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করল ইরান: তেলের দামে আগুন, ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলার ছাড়াল, ১০০ ডলারের দোরগোড়ায়
$ads={1}
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে উঠেছে। পাল্টা জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি করিডর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক তেল বাজারে ভূমিকম্পের মতো ধাক্কা লেগেছে।
সোমবার সকাল থেকেই অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ লাফিয়ে বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৮০ ডলারের ওপরে উঠেছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, পরিস্থিতি যদি আরও খারাপ হয় তাহলে দাম খুব শিগগিরই ১০০ ডলার ছুঁয়ে ফেলতে পারে। কোনো কোনো বিশেষজ্ঞের মতে, সপ্তাহের শেষ নাগাদ বা আগামী সোমবার বাজার খুলতেই দাম ব্যারেলপ্রতি ২০ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে।
আরো পড়ুন - ইরান যুদ্ধে ৩ মার্কিন সেনার নিহতের খবর নিশ্চিত
হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল বিশ্ববাজারে আসত। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, ইরাকসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানির প্রায় ২০-২৫ শতাংশ এই পথ দিয়েই যেত। জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় প্রতিদিন বাজারে ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি ব্যারেল তেলের সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হচ্ছে বলে হিসাব করা হচ্ছে।
আইসিআইএস এনার্জির ডিরেক্টর অজয় পারমার বলেছেন, “হামলার কারণে দাম বাড়া তো হবেই, কিন্তু আসল বিপদ হলো হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়া। এটা দীর্ঘদিন চললে তেলের দাম ১০০ ডলারের অনেক ওপরেও চলে যেতে পারে।”
$ads={2}
বিখ্যাত এনার্জি রিসার্চ ফার্ম রাইস্ট্যাড এনার্জি জানিয়েছে, হরমুজ বন্ধ থাকলে সোমবার বাজার খুলতেই তেলের দামে ২০ ডলারের বড় লাফ দেখা যাবে। এর ফলে জ্বালানি পরিবহন খরচ বেড়ে যাবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে নিত্যপণ্য থেকে শিল্প উৎপাদন—সর্বত্র। বিশ্বজুড়ে নতুন করে মুদ্রাস্ফীতির আগুন জ্বলে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।
