দেশে একটি ন্যায়ভিত্তিক, নিরাপদ ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, জনগণ এমন একটি রাষ্ট্র চায় যেখানে ভীতি, অন্যায় ও নিপীড়নের কোনো স্থান থাকবে না। এই লক্ষ্য অর্জনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিশেষ করে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
$ads={1}
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠিত হয়েছে, যার ফলে জনমনে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে এই ইতিবাচক পরিস্থিতি ধরে রাখতে হলে সমাজে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, জনগণ এখন এমন একটি পরিবেশ প্রত্যাশা করে, যেখানে গুম, অপহরণ বা সহিংসতার ভয় থাকবে না এবং প্রত্যেকে নিরাপদে বসবাস করতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের দায়িত্ব শুধু অপরাধ দমন নয়, বরং জনগণের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলাও জরুরি। যদি পুলিশ ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস তৈরি হয়, তাহলে অপরাধ প্রতিরোধ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজ অনেক সহজ হয়ে যায়।
বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মব সহিংসতা, কিশোর অপরাধ এবং মাদকের বিস্তার সমাজের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে। এসব সমস্যার মোকাবিলায় পুলিশকে আরও কার্যকর, পেশাদার ও দায়িত্বশীল হতে হবে। তিনি মনে করেন, এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
একই সঙ্গে তিনি পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নের ওপরও গুরুত্ব দেন। পরিবর্তিত বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা বাড়ানো এবং প্রশিক্ষণের মান উন্নত করা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। এতে করে পুলিশ বাহিনী আরও সক্ষম ও কার্যকর হয়ে উঠবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও অগ্রগতির সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি গভীরভাবে সম্পর্কিত। একটি স্থিতিশীল পরিবেশ ছাড়া অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই পুলিশের উন্নয়নকে তিনি জননিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ পুলিশ অতীতে বিভিন্ন জাতীয় সংকট ও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে। সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনেও তাদের কার্যক্রম পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও পুলিশের অবদান তুলে ধরে তিনি বলেন, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশ দেশের সুনাম বৃদ্ধি করেছে। এই ধারা অব্যাহত রাখতে ভবিষ্যতেও দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব ধরে রাখার আহ্বান জানান তিনি।
$ads={1}
সবশেষে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, পুলিশ সপ্তাহ কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং নিজেদের দায়বদ্ধতা নতুনভাবে উপলব্ধি করার একটি সুযোগ হয়ে উঠবে। জনগণের আস্থা অর্জন এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পুলিশ বাহিনী আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
